প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক: দক্ষ জনবল ও বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ
অনলাইন ডেস্ক : ||
স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা; নারায়ণগঞ্জে দ্বিতীয় শিল্প পার্কের প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের আরও জোরালো ও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানি ভাষায় যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, আধুনিক কৃষি শ্রমিক এবং পেশাদার গাড়িচালক নিয়োগে জাপান উদ্যোগী হলে উভয় দেশই লাভবান হবে। তিনি বলেন, জাপানি প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আমাদের কর্মীরা দেশটির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জাপানি কোম্পানিগুলোকে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিজ ইকোনমিক জোন সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাপান যদি আগ্রহী হয়, তবে সরকার আড়াইহাজারের মতো আরও একটি অত্যাধুনিক শিল্প পার্ক বা ইকোনমিক জোন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, জাপানি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বৈঠকে দেশের মেগা প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মেট্রোরেল বা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের চলমান অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত এসব অবকাঠামো বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বিষয়ক উপদেষ্টামণ্ডলী। অন্যদিকে জাপানের পক্ষে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি অংশ নেন। দুই দেশের প্রতিনিধিদের এই আলোচনা আগামী দিনে বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারিত্বকে আরও টেকসই করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ