প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
‘ওরে নিয়ে আমি একবারই এসেছি’ জামায়াতের এমপি
||
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভিডিও বিতর্ক থামছেই না। সোমবার রাতে প্রথম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার সকালে আরও একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে জনৈক এক তরুণীর সঙ্গে তাকে বিব্রতকর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই তা ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।মঙ্গলবার সকালে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হচ্ছে যে তিনি ওই তরুণীকে কতবার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, একবার। ওরে নিয়ে আমি একবারই এসেছি।’ এই আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে এমন কাজ করাকে ‘অন্যায়’ বলে স্বীকার করে নেন। ভিডিওর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ওই তরুণীকে নিজের নাম জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রথমে তা এড়িয়ে যেতে চান। পরে বারবার চাপের মুখে নিজের নাম ‘মারিয়া’ বলে উল্লেখ করেন এবং ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়ার জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে সজল চোখে অনুরোধ জানান। তরুণীটি তার বাসার ঠিকানা জানাতে অনীহা প্রকাশ করে চুপ থাকেন।এর আগে সোমবার রাতে প্রথম দফায় গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা শাখা। তবে দলীয়ভাবে দাবি করা হয় যে, ভিডিওতে থাকা ওই তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। পরবর্তীতে নজরুল ইসলাম নিজেও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট দিয়ে ঘটনার ব্যাখা প্রদান করেন। তার দাবি অনুযায়ী, রাজধানীর মগবাজারে তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বাবার অফিসে তাকে পরিকল্পিতভাবে জিম্মি করা হয়েছিল। সেখানে তাকে ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।গাজী নজরুল ইসলাম ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন উচ্চপর্যায়ের নেতার ব্যক্তিগত ভিডিও এভাবে জনসমক্ষে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি নৈতিকতার অবক্ষয়, অন্যদিকে তার সমর্থকরা একে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে কিনা বা কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দেশবাসী।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ