প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
রাজধানীর ১৯টি পয়েন্টে এআই ক্যামেরা: ডিএমপি
||
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বর্তমানে রাজধানীর ১৯টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে এবং এসব ক্যামেরার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানী লেক রোডে এইআই ক্যামেরা দিয়ে ট্রাফিক মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধনীতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে এআই ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষও পরিদর্শন করেন।
এই মুহূর্তে রাজধানীতে কতগুলো পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজধানীতে এই মুহূর্তে আমাদের ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা বসানো আছে। তার সঙ্গে আজকে আমাদের সংযুক্ত হলো আরও চারটি। এই সর্বমোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে আমরা এআই ক্যামেরা চালু করেছি। অন্যান্য জাংশনগুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান।’
এআই ক্যামেরায় মামলার প্রসিকিউশনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে সেটি মোবাইলে পাবে নাকি হার্ডকপি পাবে— এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটা বিভিন্ন সময় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সার্কুলেট করেছি। আমাদের ডিএমপি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমরা সার্কুলেট করেছি যে, আমাদের এই ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমটি এআই ক্যামেরা ব্যবহার করে যেটি ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন হচ্ছে এটা বাই পোস্টে আমাদের অফিস থেকে তাঁর কাছে পৌঁছবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে দুটি নম্বরের মাধ্যমে তাঁর কাছে মেসেজ যাবে। কিন্তু প্রসিকিউশনের যে পেপার সে পেপারটি স্টেকহোল্ডারের কাছে জনগণের কাছে বাই পোস্টে যাবে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা বিষয় হচ্ছে যে, গাড়ি বিক্রি করলে অনেকেই নাম পরিবর্তন করেন। সেক্ষেত্রে কিন্তু দেখা গেল যে...ওই পূর্বের মালিকের কাছেই ঠিকানায় যাচ্ছে। ফলে সে কিন্তু ওটা দায় নিচ্ছে না...আসলে এই সমনের যে সংখ্যাটা এই সংখ্যাটা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তো এই পর্যন্ত আমাদের কাছে যে হিসাব আছে সেখানে ৩৮ হাজার সমন আমাদের কাছে পেন্ডিং আছে।’
এ পর্যন্ত এআই ক্যামেরা দিয়ে কত সংখ্যক মামলা করা হয়েছে সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করলে কমিশনার জানান, এ পর্যন্ত এআই ক্যামেরা ব্যবহার করে দেড় হাজার এর মতো মামলা আমরা করেছি। এই দেড় হাজার মামলায় যে জরিমানা আসলে প্রত্যেকটি মামলার তো আলাদা প্রসিকিউশন। জরিমানার বিষয় আছে এবং সেই জরিমানাগুলো আমাদের যখন ট্রাফিক অফিসে জমা দেওয়ার পরে সেগুলো আমাদের সিস্টেমে আসে। এ ব্যাপারে আমি আপনাদের বলব, আপনারা আমাদের ডিসি মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করে জরিমানার যে আজ পর্যন্ত হালনাগাদ যে তথ্য সেটা নিতে পারবেন।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ডিএমপি প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ডেটা-নির্ভর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে। তিনি জানান, মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কৌশলগত ডাইভারসন এবং অপ্রয়োজনীয় ক্রসিং বন্ধ করায় যানজট অনেকাংশে কমেছে। একই সঙ্গে চালকদের লেন মেনে চলা ও ট্রাফিক সিগন্যাল অনুসরণে উৎসাহিত করতে এআই ক্যামেরা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও এ স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। ঢাকাকে একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসী, পরিবহন মালিক ও চালকদের সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যাডমিন, প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ) আসফিকুজ্জামান আকতার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস) সুফিয়ান আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ