প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
দৃশ্যম ৩ মুভি রিভিউ: মোহনলালের অভিনয় ও জিতু জোসেফের পরিচালনা কেমন হলো?
বিনোদন ডেস্ক ||
পরিবার বাঁচাতে কতদূর যাবেন জর্জকুট্টি? জিতু জোসেফ ও মোহনলালের রসায়নে নতুন মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের ব্যবচ্ছেদ।ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় থ্রিলার ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দৃশ্যম’-এর তৃতীয় কিস্তি নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দায় ফিরলেন অভিনেতা মোহনলাল। জিতু জোসেফের পরিচালনায় ‘দৃশ্যম ৩’ সিনেমাটি সম্প্রতি একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের ঘটনার ছয় বছর পরের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটি কেবল একটি অপরাধমূলক থ্রিলার নয়, বরং এটি অপরাধীর মনের গহীনে জমে থাকা ভয় এবং লড়াইয়ের এক জটিল আখ্যান। জর্জকুট্টি—যিনি একজন আদর্শ পারিবারিক মানুষ হিসেবে নিজের আপনজনদের রক্ষা করতে আইনের চোখে অপরাধী হয়েছেন, তাঁর সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এই পর্বেও অমলিন।গল্পের শুরু হয় জর্জকুট্টির বড় মেয়ে অঞ্জুর বিয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে। এক সময়ের সাধারণ কেবল টিভি অপারেটর থেকে এখন তিনি ১০০ কোটি রুপির সিনেমার সফল প্রযোজক। আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও পুরোনো সেই খুনের ঘটনা জর্জকুট্টির পিছু ছাড়েনি। অঞ্জুর বিয়ের প্রতিটি সম্বন্ধ ভেঙে যায় অতীতের সেই কালিমার কারণে। সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে; একসময়ের আপন প্রতিবেশী এখন তাঁকে দেখছে প্রভাবশালী এক ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে। এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই জিতু জোসেফ গল্পের বুনন তৈরি করেছেন, যেখানে জর্জকুট্টি নিজের অজান্তেই নিজের তৈরি করা মিথ্যার জালে বন্দি হয়ে পড়েছেন।সিনেমার প্রথমার্ধে মূলত পারিবারিক আবেগ ও বিয়ের চেষ্টার ওপর জোর দেওয়া হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে এটি পূর্ণাঙ্গ ইনভেস্টিগেশন থ্রিলারের রূপ নেয়। পুলিশ বাহিনী এবার আরও সুসংগঠিতভাবে জর্জকুট্টিকে ধরার জন্য জাল বিস্তার করে। তবে এবারের লড়াইটি কেবল বুদ্ধির নয়, বরং নৈতিকতারও। জর্জকুট্টি পরিবারকে বাঁচাতে গিয়ে পরোক্ষভাবে আরও অনেক মানুষের জীবন ধ্বংস করেছেন—এই সত্যটি দর্শকদের মনে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি করে। মোহনলাল তাঁর অসাধারণ সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন এমন এক মানুষকে, যার ভেতরে বইছে তীব্র ঝড়, কিন্তু বাইরে তিনি পাথরের মতো শান্ত। তাঁর প্রতিটি চাহনি ও নিরবতা এই সিনেমার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।সিনেমাটির কিছু দুর্বল দিকও নজরে আসে। চিত্রনাট্যের কিছু সংলাপ অতিরিক্ত নাটকীয় এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যানির্ভর, যা মাঝেমধ্যে গল্পের গতিকে মন্থর করে দেয়। বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ চরিত্রের চিত্রায়ন এবং সাংবাদিক চরিত্রের অসম্পূর্ণতা কিছুটা খাপছাড়া মনে হতে পারে। তা সত্ত্বেও, শেষ মুহূর্তের চমকপ্রদ মোচড় বা ‘টুইস্ট’ দর্শকদের আবারও মনে করিয়ে দেয় কেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এত সফল। ‘দৃশ্যম ৩’ হয়তো আগের দুই কিস্তির তুলনায় কিছুটা মন্থর, কিন্তু এটি একজন অপরাধীর একাকীত্ব এবং পরিবারকে রক্ষার সেই আদিম প্রবৃত্তি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত এটি একটি অমীমাংসিত প্রশ্নের জন্ম দেয়—জর্জকুট্টি কি সত্যিই জয়ী হয়েছেন, নাকি তিনি নিজের মনের কাছেই আজীবনের জন্য কয়েদি হয়ে রইলেন?পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ