প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ন্যায্য পাওনা না পেয়ে সাবেক কর্মীর অভিযোগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা
||
দীর্ঘ এক দশকের কর্মজীবন শেষে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত কিউসি সুপারভাইজার; প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না সমাধান।মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এলাকায় অবস্থিত ডাচ-বাংলা প্যাক লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে এক সাবেক কর্মীর ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে মেধা ও শ্রম দেওয়ার পর, পাওনা আদায়ের দাবিতে এখন সরকারি দপ্তরের বারান্দায় ঘুরছেন ভুক্তভোগী কিউসি সুপারভাইজার।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ওই কর্মী ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডাচ্-বাংলা প্যাক লিমিটেডে যোগদান করেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে কিউসি সুপারভাইজার হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তার কর্মজীবনের ইতি টানার প্রাক্কালে তিনি প্রতিষ্ঠানের সকল বিধিনিষেধ মেনে তিন মাস পূর্বেই পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘ সময়ের এই সেবার বিনিময়ে তার প্রাপ্য সকল গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনা সম্মানজনকভাবে হাতে পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।চাকরি ছাড়ার পর থেকে আজ অবধি তার কোনো পাওনা পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে তিনি বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ১২৪ (ক) অনুযায়ী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মুন্সিগঞ্জ কার্যালয়ে একটি প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকারি দপ্তর থেকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি মীমাংসার বদলে সময়ক্ষেপণকেই হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, মীমাংসার জন্য ডাকা প্রথম বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটি লিখিতভাবে সময় প্রার্থনা করে। দ্বিতীয় বৈঠকে জনবল সংকটের অজুহাতে প্রতিনিধি পাঠিয়ে আবারও সময় নেওয়া হয়। চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয় তৃতীয় বৈঠকে, যখন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধিই উপস্থিত হননি। এই আচরণকে শ্রম আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং শ্রমিকের অধিকার হরণের একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।ভুক্তভোগী ওই কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ডাচ্-বাংলা প্যাক লিমিটেডের অনেক কর্মচারী একইভাবে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে নিরবে চোখের জল ফেলছেন। আমি আমার কষ্টের অর্জিত টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আইনি লড়াই থেকে পিছপা হব না।" তিনি এই বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।শিল্পাঞ্চলে এ ধরণের শ্রমিক বঞ্চনা দেশের শ্রম বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রম আইনের সঠিক বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ শ্রমিকদের অধিকার বারবার এভাবে পদদলিত হবে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ