প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি
||
মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নে ফরিংখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে রাজানীকান্দার ২৬ পরিবারের ভিটেমাটি বর্তমানে নদীগর্ভে বিলীনের পথে। ইতোমধ্যে সাত-আটটি ঘর ভিটেসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) সরেজমিন গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নে গেলে রাজানীকান্দার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব বয়সী আব্দুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘১২ বছর মানুষের বাড়িতে থেকেছি (ছিলাম)। ছেলেগুলো নিয়া কষ্ট করে এখানে বাড়ি করেছি। কিন্তু নদী সব ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা ইউনুস আহমাদ বলেন, আমাদের এই রাজানীকান্দা থেকে প্রায় ২০০ হাত পশ্চিমে নদী ছিল। কিন্তু নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বসতভিটেতে এসে ভাঙা শুরু করেছে। এ বিষয়ে মাসখানেক আগে ইউএনও স্যারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু দেখতে পর্যন্ত আসেনি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য টিটু মিয়া জানান, রাজানীকান্দার ওই বাড়িগুলো থেকে নদী অনেক দূরে ছিল, কিন্তু নদী এখন বাড়িঘর ভিটে ভাঙছে। তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ না নিলে গোবিন্দশ্রী থেকে কদমশ্রী বেইন্নে বাজার যাওয়ার ডিসি রাস্তাটি ভেঙে যেতে পারে।
স্থানীয় শিক্ষক মিলাদ হোসেন জানান, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব। নদী ভাঙন রোধ না করলে ঘরবাড়ি ভেঙে পাকা রাস্তাও ভাঙবে।
গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন জানান, নদী ভাঙনে রাজানীকান্দার কিছু পরিবারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত নদী ভাঙন রোধ না করতে পারলে রাজানীকান্দার ওই বাড়িগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সেইসাথে কদমশ্রী বাজার থেকে গোবিন্দশ্রী ডিসি রোড পর্যন্ত যে পাকা সড়ক রয়েছে সেটিও ভেঙে যেতে পারে।
এ বিষয়ে ইউএনও নাদির হোসেন শামীম বলেন, এ উপজেলায় আমি নতুন যোগদান করেছি। নদী ভাঙনের বিষয়টি আমার জানা ছিল না, আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। যে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সাথে কথা বলে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও নদী ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বলে সমাধান করার চেষ্টা করব।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ