প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা ও পীর নিহত: কোরআন অবমাননার অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক ||
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক পীরকে পিটিয়ে হত্যা ও তার আস্তানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামক স্থানে এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে। নিহত আব্দুর রহমান ওরফে শামিম জাহাঙ্গীর (৫৮) ওই দরবারের প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কথিত পীর শামিমকে ইসলামের মৌলিক বিধিবিধান ও পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি মুহূর্তেই এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করে। বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে দরবারে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং এক পর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং আহত অবস্থায় শামিমসহ চারজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। তার অনুসারীদের মধ্যে আরও কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে যে, নিহত শামিম জাহাঙ্গীর ইসলাম ধর্মের মৌলিক স্তম্ভ—নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতকে অস্বীকার করে নিজ আবিষ্কৃত মতবাদ প্রচার করতেন। এমনকি তার অনুসারীদের মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানে হজের নামে সমবেত হওয়ার নির্দেশ দিতেন বলে জানা যায়। এছাড়া দাফন ও জানাজায় ঢাকঢোল বাজানো এবং ‘হরে শামীম’ স্লোগান দেওয়ার মতো বিতর্কিত আচার পালনের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এর আগে ২০২১ সালেও ধর্ম অবমাননার দায়ে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ভিডিওটি পুরনো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ