প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক ||
ইরান-ইসরায়েল উত্তজনা আর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের বহির্বাণিজ্য এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ডলার সংকট ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজার ও উৎপাদন খাতে।বিভিন্ন খাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো তাদের আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় শিল্পক্ষেত্রে ‘কস্ট-পুশ’ সংকট তীব্রতর হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ করতে না পারায় নতুন করে এলসি খোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের প্রকৃত জিডিপি ১.২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু আমদানি নয়, নেতিবাচক হাওয়া লেগেছে রপ্তানি খাতেও; গত মার্চ মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কমেছে। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক জানান, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে না আনলে এই ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল আসা ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। একই চিত্র ভোজ্য তেলের বাজারেও; আমদানিতে ধীরগতির কারণে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পরিশোধনকারীরা।অর্থনৈতিক এই সংকটের ঢেউ পৌঁছেছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়েও। বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাকের মতো দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমতে শুরু করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও সতর্ক করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রলম্বিত প্রভাব বাংলাদেশের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ব্যবসায়ীদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ