প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
'দুই ঘণ্টা ধরে একই জায়গায়, আল্লাহই জানেন কখন রংপুর যাব'
||
'গাজীপুর থেকে বিকেল ৫টার সময় বাস ছেড়েছি। টাঙ্গাইলে আসছি সকাল ৯টার সময়। ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় সময় লাগছে ১৪ ঘণ্টা। টাঙ্গাইল এসেও দুই ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় বসে আছি। আল্লাহই জানেন কখন রংপুর যাব।' ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরগামী রাব্বি পরিবহনের সুপারভাইজার আব্দুল মালেক।
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, টানা বৃষ্টি ও যমুনা সেতুর ওপর একাধিক দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এ যানজট সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত তিনটার পর থেকে অতিবৃষ্টির মধ্যে যমুনা সেতুর ওপর কয়েকটি যানবাহন বিকল ও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো রেকার দিয়ে সরাতে সময় লাগায় টোলপ্লাজাও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। পরে যান চলাচল শুরু হলেও ধীরগতির কারণে যানজট আরও বাড়তে থাকে।
সকাল ৮টার পর থেকে ধীরগতিতে যান চলাচল শুরু হলেও যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগরজলফৈই, করটিয়া, নাটিয়াপাড়া হয়ে মির্জাপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামীম হোসেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১২টায় ডেমরা থেকে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন। বুধবার সকাল ১১টায়ও তিনি টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় আটকে ছিলেন। তিনি বলেন, ১১ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে পেরেছি। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে স্ত্রী-সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিকেল ৫টায় নরসিংদীর পুবাইল থেকে বাস ছেড়েছি। এখন সকাল ১১টা। ১৮ ঘণ্টায় মাত্র ১০০ কিলোমিটার পথ এসেছি। এ অবস্থা থাকলে রংপুর যেতে সকাল হয়ে যাবে। ঈদ বাসেই করতে হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে যান চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়ে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সেতুতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ রয়েছে। দুই প্রান্তে ১৮টি বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য দুটি বুথ রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সেতুর ওপর দুর্ঘটনা এবং বৃষ্টির কারণে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। যানজট নিরসনে মহাসড়ককে চারটি সেক্টরে ভাগ করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ