প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি তেহরানের
অনলাইন ডেস্ক ||
ইরানের ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে তেহরান। ইরান সরকারের দাবি, কোনো মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার নয়, বরং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত লুট করতেই এই গোপন অভিযান চালিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে ইরানি বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধে সেই অভিযান শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মার্কিন বাহিনী দাবি করেছিল তারা তাদের এক পাইলটকে উদ্ধারের জন্য ওই এলাকায় অবতরণ করেছিল। কিন্তু তাদের অবতরণের স্থানটি ছিল তথাকথিত নিখোঁজ পাইলটের অবস্থান থেকে অনেক দূরে।বাঘাইয়ের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া বা চুরি করা। তিনি এই ব্যর্থতাকে ১৯৮০ সালের সেই আলোচিত ‘অপারেশন ইগল ক্ল’-এর পুনরাবৃত্তি হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে ইরানের তাবাস মরুভূমিতে মার্কিন উদ্ধার অভিযান বিপর্যয়কর পরিণতির মুখোমুখি হয়েছিল।ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন এই অনুপ্রবেশ ছিল ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত এবং ওয়াশিংটনের জন্য একটি বিশাল ‘কূটনৈতিক ও সামরিক কেলেঙ্কারি’। এই অভিযানে ব্যবহৃত অন্তত দুটি অত্যাধুনিক এমসি-১৩০জে কমান্ডো-টু বিমান এবং বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। উল্লেখ্য, প্রতিটি এমসি-১৩০জে বিমানের দাম প্রায় ১০ কোটি ডলারের বেশি এবং এগুলো মূলত উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ অভিযানের জন্য নকশা করা।তেহরান আরও জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় লুর উপজাতির মানুষও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এই আগ্রাসনের মোকাবিলা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর কৌশলগত জয় পাওয়ার মরিয়া চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে মার্কিন বাহিনীকে পিছু হটতে হয়েছে বলে দাবি করছে ইরান।
সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ