প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌর সরঞ্জামে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁরা মনে করেন, আমদানিকৃত সরঞ্জামের ওপর আর্থিক বোঝা কমিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে সহজলভ্য করা গেলে একদিকে যেমন জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ কমবে, অন্যদিকে দেশ টেকসই উন্নয়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। গত বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে ন্যায়সংগত ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় উত্তরণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে। একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তর, গবেষক এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষ যখন দেখবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা সাশ্রয়ী, তখন তাঁরা এই প্রযুক্তির দিকে বেশি ঝুঁকবেন। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং গ্রামীণ উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক তাঁর বক্তব্যে জানান, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে একটি ইতিবাচক ও প্রগতিশীল অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেটে সৌর সরঞ্জামে উপযুক্ত প্রণোদনা এবং নেট মিটারিংয়ের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি নীতির সফল প্রয়োগে তরুণ সমাজ ও নাগরিক সক্রিয়তার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ কেবল পরিবেশগত নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবেও দেশকে লাভবান করবে। তবে এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সভাপতির বক্তব্যে ফারাহ কবির বলেন, এই রূপান্তরকে কেবল কারিগরি সমাধান হিসেবে দেখলে হবে না। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও সামাজিক বাধাগুলো দূর করতে হবে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পথনকশা তৈরির মাধ্যমে নারী, তরুণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সেমিনারে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং একটি কার্যকর জ্বালানি রূপান্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ