প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
৩২ বছর পরও নিজের সেই বক্তব্যে অটল সুস্মিতা
||
১৮ বছর বয়সে তিনি স্বপ্ন দেখতেন— একদিন বিশাল জনসমুদ্র তাকে ভালোবাসায় ঘিরে রাখবে। দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের ছোট্ট ঘরে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে নিজেকে কল্পনা করতেন করতালির মাঝে। তার জীবনের সেই স্বপন পূরণ হয় ১৯৯৪ সালের ২১ মে মিস ইউনিভার্স খেতাব জয়ের মাধ্যমে।
সেই অর্জনের ৩২ বছর পূর্তিতে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন।
সুস্মিতার স্বপ্নের পেছনে অনুপ্রেরণা ছিলেন ভারতের প্রথম মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা। নিজের অনুপ্রেরণার কথা জানিয়ে সুস্মিতা বলেন, ‘রাকেশ শর্মা মহাকাশে গিয়েছিলেন, আর আমি চেয়েছিলাম মিস ইউনিভার্সকে ছুঁতে। মানুষের এত ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতিটা আমাকে সবসময় টানত। আমি যেন আগে সেই মুহূর্তকে অনুভব করেছিলাম। তখনই বিশ্বাস করেছিলাম, এটা আমার পক্ষে সম্ভব।’
মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে বিজয়ীর নাম ঘোষণার মুহূর্তটিও আজও স্পষ্ট মনে আছে তার। অভিনেত্রীর কথায়, ‘সব আলো নিভে গিয়ে যখন শুধু একটি স্পটলাইট আমার ওপর এসে পড়ল, তখন মনে হয়েছিল পুরো ইউনিভার্স যেন আমাকে বলছে—যা করছো, ঠিক করছো। সেই মুহূর্তে বুঝেছিলাম ভারত ইতিহাস গড়েছে।’
পুরস্কার মঞ্চে এক বিচারকের প্রশ্নে সুস্মিতার উত্তর আজও অনুরাগীদের মনে গেঁথে আছে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে তিনি বলেছিলেন, ‘নারী হওয়া ঈশ্বরের এক উপহার।’
৩২ বছর পরও নিজের সেই বক্তব্যে অটল তিনি। সুস্মিতার মতে, ‘একজন নারী শুধু সন্তান দেন নন, তিনি ভালোবাসা, যত্ন আর ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা দেন। এটাই নারীত্বের আসল সৌন্দর্য।’
তবে খ্যাতির সঙ্গে যে চাপ আসে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, মিস ইউনিভার্স হওয়ার পর দীর্ঘদিন নিজেকে ‘পারফেক্ট’ দেখানোর চাপ অনুভব করেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝেছেন, প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিক নয়, বরং ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে।
সুস্মিতা আরও বলেন, ‘মানুষ ভেনে নেন আমার চলার পথটা সাবলীল ছিল। কিন্তু আমি অন্য সবার মতোই ভয়, অনিশ্চয়তা আর দুর্বলতার মধ্য দিয়ে গেছি। পার্থক্য শুধু একটাই—আমি খুব দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে শিখেছি।’ সূত্র: এনডিটিভি
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ