প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
পারস্য উপসাগরে আটকা ২,১৯০ জাহাজ, বিপাকে ২০ হাজার নাবিক
অনলাইন ডেস্ক ||
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট। হরমুজ প্রণালি-তে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের মুখে ৩২০টি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কারসহ অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে।বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ ম্যারিন ডাটায় দেখা গেছে, এসব জাহাজ উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থানে থেমে আছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ৫০টি অপরিশোধিত তেলবাহী এবং ১২টি তরল গ্যাস পরিবাহী বৃহৎ জাহাজ রয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে, সেখানে মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে মাত্র ৬টি জাহাজ পার হতে পেরেছে।বর্তমানে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। কেবল লারাক দ্বীপ সংলগ্ন একটি বিশেষ করিডোর দিয়ে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি জাহাজ পারাপারে ইরান প্রায় ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত ফি আদায় করছে। নৌ-চালকদের কাছে এটি ‘তেহরান টোল বুথ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে মালয়েশিয়া-এর মতো কিছু ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এই টোল মওকুফের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।এদিকে চীন নিশ্চিত করেছে, তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ বিশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, দুটি কন্টেইনার জাহাজ দ্রুতগতিতে এই পথ পাড়ি দিয়েছে।অন্যদিকে, একটি গ্রিক জাহাজ সৌদি আরব থেকে তেল নিয়ে ভারত-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এছাড়া ভারতের এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজ ঝুঁকি নিয়েই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।এই সংকট শুধু জাহাজেই সীমাবদ্ধ নয়—প্রায় ২০ হাজার নাবিক বর্তমানে উপসাগরের উত্তাল সমুদ্রে আটকা পড়ে আছেন। মাইন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় অনেক জাহাজ রাতের অন্ধকারে কিংবা ট্র্যাকার বন্ধ রেখে চলাচলের চেষ্টা করছে।এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য ৩৫টি দেশের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—অন্যথায় তেহরানকে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক তেলবাজার, আমদানি-রপ্তানি এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ