প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
মাত্র ১০ টাকার চাঁদা না দেওয়ায় প্রাণ গেল সিএনজি চালক মুমিনের
মীযানুর রহমান ||
মাত্র ১০ টাকার অবৈধ চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রাণ হারালেন দড়িকান্দীর সিএনজি চালক মুমিন (৪০)। দুইদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাবাজার-দড়িকান্দী সড়কে দীর্ঘদিন ধরে একটি চাঁদাবাজ চক্র সিএনজি চালক ও শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে আসছিল। ঘটনার দিন মুমিন অবৈধভাবে দাবি করা ১০ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মুমিনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান আজ দিশেহারা। ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চারদিকে শুধু অনিশ্চয়তা আর কান্না।এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাবাজার থেকে দড়িকান্দী সড়কে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা, সিএনজি চালক ও শ্রমজীবী মানুষ রাস্তায় নেমে দ্রুত বিচার এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অবসান দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ জোর করে আদায় করে আসছে। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতার কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, “আজ মুমিন মারা গেছে, কাল হয়তো আরেকজন শ্রমজীবী মানুষ একইভাবে প্রাণ হারাবে। আমরা আর কোনো মুমিনের লাশ দেখতে চাই না।”স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করলেই হবে না; যারা এই অবৈধ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, যারা নেপথ্যে থেকে এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।এলাকাবাসীর একটাই দাবি—মুমিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক,চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হোক,এবং খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রাষ্ট্র নিশ্চিত করুক।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ