প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
পক্স ওয়ার্ডেও হামের রোগী, মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তীব্র সংকট
অনলাইন ডেস্ক ||
রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে সৃষ্টি হয়েছে চরম সংকট। রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে নির্ধারিত ওয়ার্ড ছাড়িয়ে এখন পক্স (বসন্ত) ওয়ার্ডেও ভর্তি করা হচ্ছে হামের রোগীদের। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।হাসপাতালের প্রতিটি বেড যেন এখন একেকটি যুদ্ধক্ষেত্র। ১০০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে হামে আক্রান্ত প্রায় ১১৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউ ও এইচডিইউতে ১১ জন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। অথচ হামের জন্য নির্ধারিত শয্যা মাত্র ১০টি।বরিশাল থেকে আসা গোলাম রাব্বি তার আট মাস বয়সী শিশু হুমায়রাকে নিয়ে ভর্তি হয়েছেন পঞ্চম তলার পক্স ওয়ার্ডে। তিনি জানান, ‘ঈদের পরদিন থেকে জ্বর, এরপর শরীরে গুটি। রোগীর চাপ এত বেশি যে সঠিকভাবে চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’একই চিত্র দেখা গেছে টঙ্গীর বাসিন্দা শরীফুল ইসলামের ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, ‘কোথাও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এখানে এসে বারান্দায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।’অন্যদিকে কামরাঙ্গীরচরের আয়েশা বেগমও তার নয় মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি। তিনি জানান, হামের টিকা সম্পর্কে আগে কোনো ধারণাই ছিল না এবং এলাকায় এ বিষয়ে প্রচারণাও ছিল না।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী আসছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির মূল কারণ টিকাদানে ঘাটতি ও সচেতনতার অভাব। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘প্রতি পাঁচ-ছয় বছর পরপর হামের প্রকোপ বাড়ে। তবে টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা ও অভিভাবকদের অবহেলা এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।’তিনি আরও বলেন, হামের টিকা সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময় পর বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই বুস্টার ডোজ সময়মতো না দেওয়ায় সংক্রমণ বেড়েছে।চিকিৎসকদের মতে, হাম সরাসরি প্রাণঘাতী না হলেও এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করা, চিকিৎসক-নার্স বাড়ানো এবং জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।অভিভাবকদের প্রতি চিকিৎসকদের পরামর্শ—শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশির সঙ্গে শরীরে গুটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ