প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
লোপা কায়সারের নামে নাহিদ-সারজিসকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার
||
একটি ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক পেজের পোস্টকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করল সত্যতা যাচাইকারী দল; আসলে কী বলেছিলেন কারিনা কায়সারের মা?সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ও ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মা লোপা কায়সারের একটি কথিত বক্তব্য। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইলে দাবি করা হচ্ছে, লোপা কায়সার মন্তব্য করেছেন— ‘আমরা কেউ জুলাই যোদ্ধা না। নাহিদ সারজিসরা আমার মেয়ের লাশ নিয়ে ব্যবসা করলে তাদের কাউকে আমি ক্ষমা করব না।’ তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট।ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৮ মে, যখন ‘নিউজ টাইম টিভি’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে এই বিতর্কিত ফটোকার্ডটি প্রথম প্রচার করা হয়। পেজটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি মূলত একটি স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট তৈরির প্ল্যাটফর্ম। তাদের পরিচিতি বিভাগেই (এবাউট সেকশন) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে, তারা কেবল বিনোদনের উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে ‘খবর বানায়’। দুর্ভাগ্যবশত, অনেক সাধারণ ব্যবহারকারী এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটিকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন এবং প্রকৃত সংবাদ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে থাকেন, যা পরবর্তীতে ব্যাপক জনবিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।প্রকৃতপক্ষে লোপা কায়সার ঠিক কী বলেছিলেন? ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, গত ১৭ মে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা কোনো দিন গণভবনে যাইনি। আমি বা ওর বাবা কেউ গণভবনে যাইনি। আমরা জুলাইযোদ্ধা নই, আমরা মানবযোদ্ধা। আমরা চুরি করিনি।’ এই বক্তব্যটির প্রথম অংশ অর্থাৎ ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা নই’ কথাটি সঠিক হলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বা সারজিস আলমকে উদ্দেশ্য করে মেয়ের লাশ নিয়ে ব্যবসা করার মতো কোনো মন্তব্য তিনি কখনোই করেননি।তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে যাচাই-বাছাই না করে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা সমাজের জন্য বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোপা কায়সারের নাম ব্যবহার করে প্রচারিত এই মিথ্যা বক্তব্যটি কেবল তাকেই বিব্রত করেনি, বরং বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকেও জনসম্মুখে বিতর্কিত করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, ইন্টারনেটে কোনো তথ্য দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার আগে তার নির্ভরযোগ্য উৎস বা মূলধারার সংবাদমাধ্যমের খবরের সাথে মিলিয়ে দেখুন। একটি দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে সঠিক তথ্যের প্রচার অপরিহার্য।পরি-কন্ঠ/মুয়াজতথ্যসূত্রRumor Scanner’s Own Analysis News Time TV – Facebook post
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ