প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
জিলহজের প্রথম দশকের রোজার ফজিলত
||
পবিত্র হজব্রত পালনের মাস জিলহজ। ইসলামের বরকতময় মাসগুলোর মধ্যেও এটি অন্যতম। বিশেষত এ মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহ তাআলার নিকট অত্যন্ত প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ। এই দিনগুলোকে নেক আমলের মৌসুম বলা হয়।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘জিলহজের প্রথম দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে উত্তম আর কোনো দিনের আমল নেই।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?’ তিনি বললেন, ‘জিহাদও নয়। তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয়েছে এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।’ (সহিহ্ বুখারি: ৯৬৯)
এই দশ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজার ফজিলত অত্যন্ত বেশি। নফল রোজা বান্দাকে তাকওয়া, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে। হজরত হাফসা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) চারটি আমল কখনো ছাড়তেন না—আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশ দিনের রোজা, প্রতি মাসে তিনটি (আইয়ামে বিজের) রোজা এবং ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত।’ (সুনানে নাসায়ি: ২৪১৬)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নবীজি (সা.) জিলহজের প্রথম দিনগুলোতে রোজা রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করতেন। তবে কেউ যদি পুরো ৯ দিন রোজা রাখতে না পারে, তাহলে অন্তত আরাফার দিনের রোজা রাখার চেষ্টা করা উচিত।
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা বিগত এক বছর এবং আগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১১৬২)
তবে যাঁরা হজ পালন করছেন এবং আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্য এ দিনের রোজা না রাখাই উত্তম। কারণ হজের গুরুত্বপূর্ণ আমল আদায়ে শক্তি ও সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানে অবস্থানরত হাজিদের জন্য আরাফার দিনের রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৪৪০)
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ