প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
সোনারগাঁয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও আনন্দবাজার হাটের ঝুঁকি
||
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা-এ মেঘনা নদী খননের নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাট বিলীনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) থেকে মেঘনা নদীর খনন কাজের ইজারা পান ব্যবসায়ী মোমেন সিকদার। পরবর্তীতে ওই কাজের দায়িত্ব নেন উপজেলার যুবদল নেতা ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুমুর রানা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী খননের আড়ালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১২টি ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে সেই বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। তারা জানান, নদী ড্রেজিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী দিনের বেলায় নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করার কথা থাকলেও রাতের বেলায় এভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতাদের একটি অংশ এবং মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের রবিউল্লাহ রবিসহ শতাধিক ব্যক্তির একটি সিন্ডিকেট এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে হাটসংলগ্ন নদীপাড়ের কয়েকটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কয়েক বছরের মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাটের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।স্থানীয়রা বলেন, আনন্দবাজার হাট শুধু একটি বাণিজ্যকেন্দ্র নয়—এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং হাজারো মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ এই হাটে কেনাবেচার জন্য আসেন। হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান।এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে আসিফ আল জিনাত-এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ