প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
ঢলে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি
||
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে দ্রুত আশপাশের এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা এই এলাকায় গত মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে- মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া, মহাজনীকান্দাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, পাকা বোরো ধান, সবজিক্ষেত ও মাছের ঘের। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, অনেক এলাকার বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। নিচু এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। মাঠজুড়ে পানির নিচে ডুবে আছে বোরো ধান।
বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম জানান, কয়েকদিন আগেই ঢলে বাদাম নষ্ট হয়েছে। এবার ধানও পানির নিচে। স্থায়ী বাঁধ না হলে কৃষকরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে হালুয়াঘাট উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি নদী হওয়ায় পানি স্থায়ী হয় না। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে শেরপুরের নদনদীতে পানি বেড়েছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল বুধবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শেরপুর পাউবোর বিভাগীয় প্রকৌশলী সুদীপ্ত কুমার ধর জানান, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। বাকি তিনটি নদী মহারশি, সোমেশ্বরী ও ভোগাইয়ের পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, যদি উজানের পানি ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত না থাকে তাহলে দ্রুতই পানি নেমে যাবে।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকালে গোল্লারপাড় এলাকায় বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে ওই এলাকার ফসলি জমি ও নিচু বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জালাল মিয়া জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে এক টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে গোল্লারপাড় এলাকায় ওই নদীর বাঁধ উপচে এবং ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, ভোগাই নদীর পানি নকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫৩ সেন্টিমিটার নিচে, ভোগাই নদীর পানি নালিতাবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪১৫ সেন্টিমিটার নিচে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২৮ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ