প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
মেঘনাঘাট জেরা বিদ্যুৎকেন্দ্র বিস্ফোরণ: আহত ১২
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১২ কর্মী দগ্ধ হয়ে হাসপাতালেনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুপুরের খাবারের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় আহতদের রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকায় অবস্থিত ‘জেরা বিদ্যুৎকেন্দ্র’-এ এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেন্দ্রটির ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার খেতে আসা অন্তত ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার দুপুরের এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো শিল্পাঞ্চল এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে যখন নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীরা ক্যান্টিনে আহার গ্রহণ করছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ ঘটে।বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে ক্যান্টিনের ভেতরে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। কর্মরত কর্মীদের আনন্দঘন মধ্যাহ্নভোজের মুহূর্তটি চোখের পলকে এক বিভীষিকাময় দৃশ্যে রূপ নেয়। আগুনের ঝলসানো আঁচ আর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। সহকর্মীরা জানান, বিস্ফোরণে ক্যান্টিনে থাকা ব্যক্তিদের হাত, মুখ ও পা মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। আহতদের আর্তনাদে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ঘটনার পরপরই অন্য সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং দগ্ধদের উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।হাসপাতাল সূত্রে আহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। দগ্ধরা হলেন—মনির হোসেন (৪৫), আল আমিন (৪০), নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), আমির (২৫), শঙ্কর (২৫), কাউসার (৩০), তুহিন শেখ (৩০), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) এবং বদরুল হায়দার (৫০)। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ক্যান্টিনের গ্যাস লাইন কিংবা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটির ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। শিল্পাঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি বা দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তকারী দল। দগ্ধ কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা এখন বার্ন ইনস্টিটিউটের গেটে উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনছেন তাদের স্বজনদের সুস্থতার আশায়।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০২৬ পরিবেশ কন্ঠ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত