প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
ঘাস কাটা নিয়ে উত্তেজনার পর বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, সীমান্তে বিজিবি টহল বৃদ্ধি
অনলাইন ডেস্ক : ||
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সীমান্তে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই উত্তেজনা ঘিরে আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছে বিজিবি। ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) ধরলা ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার গোলাম মোস্তফা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের শূন্যরেখাস্থলে বাংলাদেশি কয়েকজন নাগরিক ঘাস কাটতে গেলে স্থানীয় ভারতীয়দের সঙ্গে তর্কাতর্কি থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে বিএসএফ ভারতীয়দের সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের উত্তর বর্ডার সীমান্ত এলাকা। অপর দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার নলনিবাড়ী সীমান্ত এলাকা। এসব এলাকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৩ ও উপপিলার ১২ নম্বরের শূন্যরেখায় বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক করা হয়। এতে ভারতের ১৫৬ রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নালঙ্গীবাড়ী ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর অরুণ কুমারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশের ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) ধরলা ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার গোলাম মোস্তফা ও একই ব্যাটালিয়নের ধবলগুড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার জোবায়ের হোসেনের নেতৃত্ব ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ সীমান্তে ঘাস কাটতে যাওয়া বাংলাদেশিদের দুষ্কৃতকারী বলে আখ্যা দেয়। বাংলাদেশিরা ভারতের কাঁটাতারের বেড়া কাটায় ব্যবহৃত লোহার তৈরি কাটার নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করে বিএসএফ। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিজিবি জানায়, বাংলাদেশি সাধারণ কৃষক তাঁদের পালিত গরু, ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে ধান কাটার কাঁচি নিয়ে গেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি যাতে না ঘটে, সে জন্য উভয় বাহিনী একমত পোষণ করে।
সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৩ ও ৮৭৪ নম্বর সীমান্তে যেকোনো ধরনের সমস্যা রোধে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টহল বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির সদস্যদের নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।’
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০২৬ পরিবেশ কন্ঠ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত