প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
যে কারণে ইরান যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষক
||
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে নতুন করে জড়ানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মনে করেন বিশ্লেষক নওয়াফ ওবায়েদ।
তবে ইরান বা ইসরায়েলের কোনও ভুল হিসাব কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তার মতে, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তেহরানে চলমান বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ তৈরি করতে পারে।
লন্ডনের কিংস কলেজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওবায়েদ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনও ভুল হিসাব না হলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ইরানি বা ইসরায়েলিদের পক্ষ থেকে কোনও ভুল হিসাব না হলে, আমার মনে হয় না যুক্তরাষ্ট্রের আবার যুদ্ধে জড়ানোর কোনও লক্ষ্য রয়েছে।”
ওবায়েদের মতে, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে যে আলোচনা চলছে, তা ইতিবাচক অগ্রগতি। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার বাইরে একটি নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার উদ্যোগ
তেহরানে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ওবায়েদ। তার মতে, এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে ইরানে হামলা চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করছেন তিনি। এর লক্ষ্য হতে পারে, বাইরের শক্তির সামরিক উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে এ ধরনের নিরাপত্তাকাঠামো কীভাবে কাজ করবে, কোন দেশগুলো এতে যুক্ত থাকবে কিংবা এর আওতায় কী ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে- এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
নতুন হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা কম বলে ওবায়াদ মনে করলেও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভুল হিসাব বা অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও আবার সরাসরি সম্পৃক্ত হতে হতে পারে।
তাইওয়ান বা অন্য কোনও ইস্যুর মতো নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক ভারসাম্য এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথের স্থিতিশীলতা সরাসরি জড়িত। ফলে নতুন করে হামলা শুরু হলে তার প্রভাব শুধু ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই।
এ অবস্থায় তেহরানে আঞ্চলিক দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বৈঠকগুলো নতুন হামলা ঠেকাতে কিংবা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা স্থায়ীভাবে প্রশমিত করতে কতটা সফল হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ওবায়েদের বক্তব্য অনুযায়ী, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে যুদ্ধে ফেরার তাগিদ নেই। তবে ইরান বা ইসরায়েলের কোনও ভুল পদক্ষেপ পরিস্থিতির হিসাব বদলে দিতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ