প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন হচ্ছে : আইজিপি
||
চাঁদাবাজি বন্ধে নতুন আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, নতুন আইনে জনগণের অভিযোগ ছাড়াই ডিজিটাল প্রমাণ বা অন্য কোনো সূত্র পাওয়া গেলে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) মামলা করার সুযোগ থাকবে।
শনিবার খুলনায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইজিপি বলেন, ‘চাঁদাবাজি যারা করে, তারা হয় সন্ত্রাসী, অথবা কোনো না কোনো ক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে এ কাজ করে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ সাক্ষ্য দিতে চায় না। এজন্য চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ যাতে সুয়োমোটো মামলা নিতে পারে, জনগণের অভিযোগ ছাড়াই ডিজিটাল প্রমাণ ও যেকোনো ধরনের ক্লু পেলে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, এমন নতুন আইন কিছু দিনের মধ্যেই হবে।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইজিপি।
পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই জনআস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং কার্যকরভাবে এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমার এখানে আসা।’
আইজিপি বলেন, ‘দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের যৌথ অভিযান চলছে। বর্তমান সরকার পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বেগবান করার জন্য আইনি কাঠামোর মধ্যে পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’
তিনি বলেন, ‘আগে কমিউনিটি পুলিশিংয়ে কিছু দুর্বলতা ছিল। এর সঙ্গে যারা জড়িত হতো, তারা এলাকায় গিয়ে পুলিশের ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেক সময় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করত। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা আদায়ের চেষ্টা করত। যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য এখন কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। পুরো কার্যক্রম আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে।’
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, কিছু অপরাধী খুন হচ্ছে, আবার কিছু অপরাধী খুন করছে। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে কেউ বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করা হোক। বল প্রয়োগ করলে আবার বলা হয়, পুলিশ ফ্যাসিস্ট; আর বল প্রয়োগ না করলে বলা হয়, পুলিশ দুর্বল। আমরা এসব দেখতে চাই না। সবাই মিলে একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলব।’
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর মাদককে একধরনের স্বীকৃতি দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সমাজে কোনো মাদক থাকবে না, কিশোর গ্যাং থাকবে না, চাঁদাবাজি থাকবে না— এসব আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্মূল করব।
এ সময় খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ ও এম এম শাকিলুজ্জামান, উপকমিশনার আহাদুজ্জামান মিয়া, আনোয়ার হোসেন, রেজাউর রহমান, সুদর্শন কুমার রায় এবং খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ