প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
জনবহুল এলাকায় অবৈধ চুনা পোড়ানোর কারখানা, গ্যাস চুরির অভিযোগে উত্তাল পিরোজপুর
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে গড়ে ওঠা কারখানার ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী; অবৈধ গ্যাস সংযোগে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি জনবহুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে পরিচালিত হচ্ছে একটি অবৈধ চুনা পোড়ানোর কারখানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পিরোজপুর এলাকার বিএনপি নেতা বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে গড়ে ওঠা এই কারখানাটি পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবাসিক এলাকার মাঝখানে গড়ে ওঠা এই কারখানার চুল্লি থেকে প্রতিদিন ঘন কালো ধোঁয়া বের হয়ে আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। দিন-রাত চলা চুনা পোড়ানোর কারণে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, কারখানাটিতে একটি এক ইঞ্চি পাইপের মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছে। এই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সরকারি গ্যাস ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"তিতাস গ্যাস অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে তারা এই অবৈধ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এভাবে গ্যাস ব্যবহার হলেও কেউ কিছু বলছে না। আমরা সাধারণ মানুষ ধোঁয়া, শব্দ আর দূষণের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছি।"স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটির কারণে আশপাশের বসতবাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া কৃষিজমি ও স্থানীয় পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি তাদের।পরিবেশবিদরা বলছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কারখানা পরিচালনা করা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়া গ্যাস আইন, ২০১০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ কারখানা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনবহুল আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্টদের নীরবতার রহস্য কী?
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০২৬ পরিবেশ কন্ঠ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত