প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
ভৈরবের মেঘনা নদীতে বালু তোলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলা, যুবদল নেতা আহত
||
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ইজারাদারপক্ষের লোক ও যুবদল নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা ও কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর এবং মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকায় মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ইজারাদারপক্ষের অভিযোগ, খলাপাড়া এলাকায় ড্রেজারে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, আশরাফুল আলম বাবু ও আরমান মিয়ার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেলোয়ার হোসেন কাকনের ওপর হামলা চালায়। কাকন ভৈরব পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা।
কাকনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
দেলোয়ার হোসেন কাকন বলেন, বৈধ ইজারা নিয়ে নদীতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নৌকার টোকেন দেওয়ার জন্য তিনি পাড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, আশরাফুল আলম বাবু ও আরমান মিয়ার নেতৃত্বে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা হয়। হামলাকারীরা তাঁর মাথা ও কানে আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করেন।
পাল্টা অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের ভৈরবের সংগঠক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল। তাঁর দাবি, কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে তাঁরা খলাপাড়া এলাকায় মেঘনা নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলনের চিত্র দেখতে যান।
ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, নদীতে ৭০টির বেশি ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় ইজারাদারপক্ষের লোকজন হামলা চালান। ভৈরব পৌর তাঁতী দলের সভাপতি মাইনুল ইসলামের নেতৃত্ব ও নির্দেশে দুটি স্পিডবোটে ১৫ থেকে ২০ জন তাঁদের ইঞ্জিনচালিত নৌকাকে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ তাঁর।
কাজল বলেন, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা স্পিডবোট নিয়ে পালানোর সময় দেলোয়ার হোসেন কাকন স্পিডবোট থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে তাঁরা ও স্থানীয় লোকজন কাকনকে ইজিবাইকে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
পৌর তাঁতী দলের সভাপতি মাইনুল ইসলাম তাঁর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ড্রেজার দেখার জন্য স্পিডবোট সারাদিনই নদীতে থাকে। সাংবাদিকদের নিয়ে নৌকায় করে ড্রেজারের ছবি ও ভিডিও করার সময় তাঁদের কয়েকজন স্পিডবোটে করে নৌকার পেছনে পেছনে নদীর পাড়ে যান। সেখানে নৌকায় ওঠার পর তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারি হয়। এতে কাকন মারাত্মক আহত হন। তাঁদের আরও দুই থেকে তিনজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী স্যার আসায় আমি সকাল থেকে তাঁর সঙ্গে আছি। নদীতে মারামারির বিষয়ে আমি অবগত নই।’
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনুর রশীদ মুঠোফোনে বলেন, নদীতে মারামারির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ