প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত ৬ কোটি ইউনিট
||
রাঙামাটির কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ।রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে স্থাপিত দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। দীর্ঘ ৫০ বছর পরিত্যক্ত থাকা পাহাড়ের ২২ একর জমির ওপর নির্মিত ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই প্রকল্পটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, পরিত্যক্ত জমিতে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় ছিল প্রায় ১১১ কোটি টাকা। বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রটির পাশে আরও ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণ এবং নতুন ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই কম। মূলত নিয়মিত পরিষ্কার রাখা ছাড়া বাড়তি কোনো ব্যয় নেই। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল থাকলেও উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল থাকে, যা পাহাড়ী এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে একটি টেকসই সমাধান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। পাহাড়ের অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতাও কমছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো প্রচলিত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সৌর বিদ্যুতের প্রসার পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাপ্তাইয়ের এই মডেল এখন সারা দেশে অনুসরণযোগ্য। পার্বত্য অঞ্চলের বিশাল পরিত্যক্ত ভূমিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ