প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট নির্ধারিত দামেও মিলছে না
||
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।রাজধানীসহ সারাদেশে এলপি গ্যাসের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের অভিযোগ,১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ১৮৩৭ টাকা মূল্যের বদলে ২১০০ থেকে ২৩০০ টাকা দরে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে দেশের অন্তত পাঁচটি বড় কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানির বিপরীতে সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থা জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। বিইআরসি’ র কাছে ব্যবসায়ীদের পাঠানো লিখিত অভিযোগে দেখা যায়, ডিলার পর্যায়েও নির্ধারিত দরে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।ভুক্তভোগী খুচরা বিক্রেতা ও অটোগ্যাস স্টেশন মালিকরা বলছেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ সরবরাহ করায় বাজারে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বিইআরসি ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে সেপ্টেম্বর মাসের বিক্রয় তথ্য তলব করেছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যমুনা, ওমেরা ও টিএমএসএস’ সহ কয়েকটি কোম্পানির তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে এই জালিয়াতি উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, জমা দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সন্দেহজনক কোনো প্রমাণ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অতীতে রেগুলেটরি কমিশনের ভূমিকা কেবল দর্শক হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকায় আমদানিকারকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে মজুতবিরোধী অভিযান ও সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন অর্থনীতিবিদরা। অন্যথায়, সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই চক্র ভাঙা অসম্ভব হয়ে পড়বে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ