প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
আড়াইহাজারে নারী শ্রমিক ধর্ষণের অভিযোগ, ৫ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ
||
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেলা থেকে এক নারী শ্রমিককে তুলে নিয়ে তাঁর স্বামী ও ভাইকে জিম্মি করে ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা গ্রহণ ও ভুক্তভোগীর চিকিৎসা পরীক্ষা না করানোর অভিযোগ করেছে ওই নারী। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিনি স্বামী ও ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলা সংলগ্ন একটি মেলায় যান। মেলা থেকে বের হওয়ার সময় রবিন নামে এক যুবকের নেতৃত্বে ৭-৮ জন তাদের পথরোধ করে। পরে তাদের পাশের একটি ভবনের নিচতলায় নিয়ে যাওয়া হয়।ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে তাদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর মোবাইল ফোনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে আসার কথা জানালে অভিযুক্তরা তাঁর কাছ থেকে বাড়ির ঠিকানা নিয়ে সেখানে গিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে।পরে তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তাঁর স্বামী ও ভাইকে এক পাশে বসিয়ে রেখে তাঁকে ভবনের অন্য অংশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৭-৮ জন তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।তিনি আরও জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে তিনি রবিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে আড়াইহাজার থানায় যান।তবে তাঁর অভিযোগ, পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করেছে। প্রথমে ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বলা হলেও পরে আর পরীক্ষা করানো হয়নি। এভাবে ঘটনার পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও মামলা ও চিকিৎসা পরীক্ষা—কোনোটিই হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজারের একটি স্পিনিং মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক আবদুল বাছেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। সেখানে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতিও তদন্তে পাওয়া যায়নি।পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি।এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত রবিনের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে ওই নারী অন্যত্র বিয়ে করায় ক্ষোভ থেকে রবিন তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের আটকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে থাকতে পারেন। তবে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। অভিযোগের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সবজেল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, থানার ওসি তাঁকে ঘটনাটি অবহিত করেছেন। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেই ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি বলে তিনি জানান।তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা এবং আইন অনুযায়ী অভিযোগ গ্রহণের বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ